শ্রী শ্রী মা লক্ষ্মীর পাঁচালী
বন্দনা
জয় মা লক্ষ্মী জয় নারায়ণী ।
জয় জয় ব্রহ্মময়ী বিশ্বজননী ।।
পাঁচালী
দোল পূর্ণিমার নিশি নির্মল আকাশ ।
ধীরে ধীরে বইতেছে মলয় বাতাস ।।
বৈকুণ্ঠেতে একাসনে লক্ষ্মী নারায়ণ ।
করিতেছে কত কথা সুখে আলাপন ।।
সৃষ্টিতত্ত্ব জ্ঞানতত্ত্ব কত কথা হয় ।
শুনিয়া পুলকিত হয় দেবীর হৃদয় ।।
অকস্মাৎ দেবর্ষি নারায়ণ স্বরে ।
আসিলেন ভক্তি চিত্তে বৈকুণ্ঠ নগরে ।।
প্রণাম করি দেবর্ষি বলেন বচন ।
মর্ত্যে দুর্ভিক্ষ মাগো কি ভীষণ ।।
অনাহারে কাতর সবে নর নারী গণ ।
বুঝি এ পৃথিবীতে আর নাই জীবন ।।
নারদের বাক্য শুনি কহেন হরিপ্রিয়া ।
বিশ্বমাতা আমি দেবী বিষ্ণুজায়া ।।
যে যেমন করে সে তেমন পায় ।
সে দোষে কর্মফল করে হায় হায় ।।
সদাচার কুল শীল দিয়া বিসর্জন ।
ঘরের লক্ষ্মীকে করে সদা বর্জন ।।
গৃহে করে কলহ সর্বক্ষণ ।
তাই আমি ত্যাগ করি সেই গৃহস্থান ।।
যে ঘরে থাকে সদা শান্তি ও ভক্তি ।
সেই ঘরে থাকি আমি করি সুখ ভক্তি ।।
ব্রত বিধান
গুরুবারে সন্ধ্যাকালে মিলি এঁয়োগন ।
ব্রতের সকল কিছু করিবে আয়োজন ।।
আসন পাতি তাহে লক্ষ্মী মূর্তি বসাইবে ।
আম্র পল্লব, গোটা ফলে ঘট সাজিবে ।।
বিবিধ পুষ্প বিল্বপত্র নৈবদ্য সকল ।
দিবে কলা শর্করা আতপ তণ্ডুল ।।
ধূপ দীপ জ্বালি সম্মুখে রাখিবে ।
একমনে পূজা দিবে লক্ষ্মী নারায়ণ ।।
পাঠ করিবে লক্ষ্মী ব্রত কথা মনোযোগে ।
প্রণাম করিবে শেষে ভক্তি ভরে যোগে ।।
ব্রতের ফল
এইভাবে যেই জন লক্ষ্মী ব্রত করে ।
দুঃখ তার কভু আর নাহি রহিবে ।।
ধন ধান্যে ভরিবে তাহার সংসার ।
সুখ শান্তি থাকবে সদা অপরিসীম তার ।।
যে পড়ে ব্রত কথা আর যেবা করে শ্রবণ ।
অবশ্যই পাইবে সে মা লক্ষ্মীর চরণ ।।
লক্ষ্মী বন্দনা
জয় জয় ব্রহ্মময়ী মা নারায়ণী ।
তোমার কৃপায় শেষ করিনু গ্রন্থ খানি ।।
লক্ষ্মী ধ্যান
ওঁ পাশাক্ষমালিকাম্ভোজ সৃণিভির্যাম্য সৌম্যয়োঃ ।
পদ্মাসনাস্থাং ধ্যায়েচ্ছ্রিয়ং ত্রৈলোক্য মাতরং ।।
লক্ষ্মী প্রণাম
ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে ।
সর্বতঃ পাহি মাং দেবী মহালক্ষ্মী নমোহস্তু তে ।।
সমাপ্তি
শ্রী শ্রী মা লক্ষ্মীর পাঁচালী সমাপ্ত
